নিকুঞ্জের ৭ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

অনলাইন ডেস্কঃ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
নিকুঞ্জের ৭ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ‘নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি’। একই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানের পর সড়ক ও ফুটপাত যেন পুনরায় দখল না হয়, সেজন্য কার্যকর ও স্থায়ী নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকুঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকানপাট, হকার এবং অবৈধ স্থাপনা বসানো হয়েছে। ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না পেয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। 

সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জনস্বার্থবিরোধী এসব দখলদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ বাসিন্দারা প্রতিবাদ করতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত ৭টি এলাকা:
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি অবিলম্বে নিচের ৭টি স্থানে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে—

১. নিকুঞ্জ-১-এর ২ নম্বর গেট: বিআরটিসি-সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে গড়ে ওঠা অন্তত এক ডজন অবৈধ দোকান দ্রুত অপসারণ।  
২. নিকুঞ্জ-২-এর ১ নম্বর সড়ক ও বটতলা: সড়কের ওপরের সব অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা।  
৩. পেট্রোবাংলার উত্তর-পশ্চিম এলাকা: সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়ক ও ফুটপাতের দখল পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ।  
৪. নিকুঞ্জ-২-এর ১/এ নম্বর সড়ক: পূর্বে উচ্ছেদ হলেও আবারও দখল হওয়ায় এখানে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা।  
৫. কবি ফররুখ সরণি (রাজউকের পেছনে): সড়ক ও ফুটপাতের সীমানা যাচাই করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা।  
৬. নিকুঞ্জ খেলার মাঠের চারপাশ: এলাকার একমাত্র খেলার মাঠের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া দোকানপাট উচ্ছেদ করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষা করা।  
৭. ১৩ নম্বর সড়ক মোড় থেকে সিটি হসপিটাল পর্যন্ত: সড়কের সীমানা নির্ধারণ করে হকার ও অবৈধ ব্যবসা অপসারণ করা।

উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকানোই মূল চ্যালেঞ্জ
অতীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। চলতি বছরের ২১ জুন নিকুঞ্জ-২-এর ১/এ নম্বর সড়কে এবং এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ১ নম্বর সড়ক ও খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই এলাকাগুলো পুনরায় দখল হয়ে যায়।

এই চক্র ভাঙতে স্থানীয়রা বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন:
উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে নিয়মিত প্রশাসনিক পরিদর্শন ও টহল নিশ্চিত করা।
দখলমুক্ত সড়ক ও ফুটপাতের বর্তমান অবস্থার ছবি ও তথ্য সংরক্ষণ করে তদারকি করা।
স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা।
পুনর্দখলের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা ও দায়িত্বরতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডিএনসিসির এই ঘোষণার পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চান নিকুঞ্জের বাসিন্দারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।