রুমায় ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’: হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফানুস ওড়ানোর বর্ণাঢ্য উৎসব

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
রুমায় ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’: হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফানুস ওড়ানোর বর্ণাঢ্য উৎসব

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে বান্দরবানের রুমায় মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা পূর্ণিমা) উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রুমা সদরের ছাইপো পাড়া বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে ছাইপো উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন ও বর্ণিল ফানুস ওড়ানোর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা, বিএনপি নেতা ক্য উ সিং মার্মা, ছাইপো পাড়ার প্রধান মংবাউ কারবারী, সাবেক ইউপি সদস্য উচহ্লা মার্মা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উহাথোয়াই মার্মা।

উৎসবের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ‘পাংখুং’ পরিবেশনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মপ্রাণ নর-নারী ও তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একযোগে হাজারটি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। প্রদীপের সোনালী আলোয় বিহার চত্বর এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে। পরে রাতের আকাশ রঙিন করে আনন্দঘন পরিবেশে উড়ানো হয় একের পর এক ফানুস।

বৌদ্ধ শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ আধ্যাত্মিক শক্তিবলে স্বর্গলোকে গিয়ে তাঁর মাতাকে ধর্মদেশনা প্রদান শেষে এই প্রবারণা পূর্ণিমা তিথিতেই মর্ত্যে ফিরে আসেন। বুদ্ধের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণ করে এবং তাঁকে আলোর পথ দেখিয়ে বরণ করে নেওয়ার আবহমান ঐতিহ্য হিসেবেই যুগ যুগ ধরে এই ফানুস ওড়ানো ও প্রদীপ প্রজ্বলন উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

এদিকে আজ বুধবার উৎসবের সমাপনী দিনে রুমা বাজার সংলগ্ন মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’র তাৎপর্য শীর্ষক ধর্মীয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের রুমা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মিস উম্যাসিং মার্মা। 

ধর্মীয় আলোচনা শেষে বর্ণাঢ্য রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ৩৬ বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার। রাতে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই উৎসবের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।