যোগাযোগ-শিক্ষা-চিকিৎসার সংকট দূর করে পাহাড়ে জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
যোগাযোগ-শিক্ষা-চিকিৎসার সংকট দূর করে পাহাড়ে জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক: পার্বত্য মন্ত্রী

বান্দরবানের দুর্গম থানচিতে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনসহ পাহাড়ি জনপদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এমপি। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে থানচি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘সম্প্রীতির বান্দরবান কাপ’-এ টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় থানচি নারী ফুটবল দলের ১৯ জন খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ৩ জন কর্মকর্তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, "দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মেয়েরা প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতা জয় করে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গৌরবের। জেলা পর্যায়ে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মনোবলেরই প্রমাণ। এই অর্জন শুধু একটি দলের বিজয় নয়, বরং পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা।" 

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চা বা বিনোদন নয়; এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। পাহাড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে বিজিবির এমন অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

থানচির স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষার আধুনিক সুযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এখন স্থানীয় জনজীবনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সরকার এসব মৌলিক সংকট নিরসন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে ৩৮ বিজিবির মেজর মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল আল ফয়সাল এবং থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে ৩৮ বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রীর স্থানীয় প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খামলাই ম্রোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।