ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর সন্তান জন্মের পর নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সালিশদারদের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক প্রলোভন ও নানা হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের প্রবাসী আমির হোসেন প্রকাশ লাকির ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে তরুণীর বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও চার ভাই-বোন নিয়ে অত্যন্ত টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছিল পরিবারটি। কিছুদিন আগে অসুস্থ বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগীর মাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। এ সময় বাড়িতে একা পেয়ে আবির জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও ভয়ে তরুণী প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখলেও পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মাকে সবকিছু খুলে বলে।

বিষয়টি অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো হলে তারা প্রথমে তা অস্বীকার করে এবং উল্টো ভুক্তভোগী তরুণীর ওপর নানা অপবাদ দেয়। পরবর্তীতে আবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে তার পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আবিরের বাবা প্রবাসে থাকায় তার চাচা নজরুল ইসলাম মনির প্রভাবশালী সালিশদার হাজি মোস্তফাকে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য ৩ লাখ টাকার প্রলোভন এবং পাশাপাশি হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল।

এদিকে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সন্তান জন্মের পরপরই চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে অভিযুক্তের পরিবার শিশুটিকে ৫০ হাজার টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।

ভুক্তভোগীর বোন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মা নানুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার সুযোগে আমার বোনের সর্বনাশ করা হয়। শুক্রবার রাতে বোন একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেওয়ার পর অভিযুক্তরা ৫০ হাজার টাকায় বাচ্চাটিকে বিক্রি করে দেয়। ঘটনার বিচার হিসেবে আমাদের ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বললেও সেই টাকাও দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে সালিশদার হাজি মোস্তফা নবজাতক বিক্রির বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অভিযুক্তের চাচা মনিরের দোকানে আমি বসা ছিলাম। অন্যরা ভেতরে গিয়ে কী ধরনের সমঝোতা করেছে, তা আমার জানা নেই।” অন্যদিকে অভিযুক্তের চাচা নজরুল ইসলাম মনিরও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ঘটনার বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন জানান, নবজাতক সন্তানসহ ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।