মানিক পশারীর দাফনে নয়, আপত্তি ছিল ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে: মাসুদ সাঈদী

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
মানিক পশারীর দাফনে নয়, আপত্তি ছিল ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে: মাসুদ সাঈদী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বাদী ও অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর জানাজা বা দাফনে কোনো বাধা ছিল না বলে দাবি করেছেন মাসুদ সাঈদী। তবে একজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে’ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়েই মূলত জনমনে ক্ষোভ ও আপত্তি তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী উল্লেখ করেন, ‘মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি কিংবা বাধা ছিল না, এখনো নেই। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে।’ তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও দলীয়ভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

মাসুদ সাঈদী তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় জেরার মুখে মানিক পশারী নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেননি; বরং মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় মানিক পশারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ডিও (আধা-সরকারি) পত্র দিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের পেছনে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাচাই-বাছাই কমিটি, তৎকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল, তাকে প্রদত্ত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ভুয়া কাউকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদর্শন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।

উল্লেখ্য, শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মানিক পশারী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার গভীর রাতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।