বোয়ালমারীতে অটিজম চিকিৎসায় ডা. আবু মুছা খানের অনন্য সাফল্য: দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া

এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
বোয়ালমারীতে অটিজম চিকিৎসায় ডা. আবু মুছা খানের অনন্য সাফল্য: দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া

শিশুদের অটিজম ও স্নায়ুবিক জটিল রোগের সফল চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর খ্যাতিমান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. আবু মুছা খান। তাঁর আধুনিক ও ক্লাসিক্যাল চিকিৎসায় জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত শিশুরা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। ফলে শুধু স্থানীয়ভাবেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তাদের অভিভাবকেরা ছুটে আসছেন তাঁর চেম্বারে। 

জানা গেছে, শিশুদের নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার (স্নায়বিক সমস্যা), ডাউন সিন্ড্রোমসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ডা. আবু মুছা খান। বর্তমানে তাঁর সেবার পরিধি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে। অনলাইনের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরামর্শ দিচ্ছেন এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর নির্দেশিত ও প্রস্তুতকৃত ওষুধ।

শুধু রোগী সেবাই নয়, হোমিওপ্যাথি শিক্ষার বিস্তার ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এই গুণী চিকিৎসক। তিনি দুটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। এছাড়া তিন দশকেরও (৩০ বছর) বেশি সময় ধরে বোয়ালমারী উপজেলা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সংগঠনের (ডিএইচএমএস) সভাপতির দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক অভিভাবক ডা. আবু মুছা খানের চিকিৎসার প্রতি তাদের আস্থা ও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে আসা করিমুল ইসলাম বলেন, "আমার ছেলে আগে একেবারেই কথা বলতে পারত না। ডা. স্যারের চিকিৎসায় সে এখন অনেকটাই সুস্থ এবং কথা বলতে পারছে। আশা করি দ্রুতই ও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।"

একইভাবে মেয়ের চিকিৎসা নিতে আসা ফাতেমা বেগম জানান, তাঁর মেয়ে জন্মগতভাবে হাঁটতে অক্ষম ছিল। তবে ডা. আবু মুছা খানের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও ওষুধ সেবনের ফলে সে এখন নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারছে। 

শুধু শিশুই নয়, অন্যান্য জটিল রোগেও সুফল পাচ্ছেন রোগীরা। ব্যাসপুর এলাকা থেকে আসা রুমানা বেগম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাইলসের মারাত্মক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। নামীদামি অনেক ওষুধ খেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে ডা. খানের কাছে এসে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করেছেন।

নিজের চিকিৎসা পদ্ধতি ও সাফল্য নিয়ে ডা. আবু মুছা খান বলেন, "আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশুদের অটিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় আশাতীত সাফল্য এসেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও অনেক প্রবাসী অভিভাবক আশার আলো নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করছেন।"

সেবামূলক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, *"টাকার অভাবে আমার চেম্বার থেকে কোনো রোগী কখনো চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যায়নি। রোগীরা তাদের সাধ্য অনুযায়ী যা ফি দেন, আমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকি। অর্থ উপার্জন নয়, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই আমার জীবনের মূল ব্রত।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।