‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ ঘিরে রুমা বাজারে জমজমাট কেনাবেচা, শীর্ষে শুঁটকি মাছ

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ ঘিরে রুমা বাজারে জমজমাট কেনাবেচা, শীর্ষে শুঁটকি মাছ

মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা পূর্ণিমা) ঘিরে বান্দরবানের রুমা বাজারে কেনাবেচার ধুম পড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা ও শুঁটকি মাছের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ ভালো; কোনো কোনো দোকানে দৈনিক গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। মাছের পাশাপাশি পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতেও ভিড় করছেন নানা বয়সী ক্রেতারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রুমা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরো বাজার পাহাড়ি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। শুঁটকি মাছের দোকানে বিক্রেতারা দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। বাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী শিবু বড়ুয়াকে দেখা যায় ক্রেতাদের সামলাতে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন—এক হাতে পণ্য তুলে দিচ্ছেন, অন্য হাতে টাকা নিচ্ছেন এবং ফাঁকা হাত দিয়ে দ্রুত পাল্লায় ওজন মাপছেন। তাঁর দোকানের সামনে-পেছনে বিভিন্ন পাহাড়ি পাড়া থেকে আসা মারমা নারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। 

রিঝুক পাড়া থেকে বাজারে আসা ক্রেতা ঞোমে উ মারমা (৪৫) বলেন, “২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর—টানা তিন দিন আমরা পাড়ার বাইরে কোথাও যাব না। এ সময় ঘরে ঘরে রান্নাবান্না হবে, সবাই বিহারে বুদ্ধপূজা ও বিশেষ আহার দান করতে যাব। এই তিন দিনের রান্নার জন্য শুঁটকি মাছই সবচেয়ে ভালো ও সুবিধাজনক। কারণ কাঁচা মাছ রাখলে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তাই উৎসবের এই দিনগুলোতে শুঁটকির চাহিদা বেশি থাকে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান পাইন্দু পাড়ার বাসিন্দা হ্লামেউ মারমা (৪০)। তিনি উৎসবের জন্য ৩-৪ পদের শুঁটকি কিনেছেন। তবে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার শুঁটকির দামও কিছুটা বাড়তি বলে জানান তিনি।

শুঁটকি ব্যবসায়ী শিবু বড়ুয়া জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে শুঁটকির দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর দোকানে প্রতি কেজি হাঙ্গর শুঁটকি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, পাতা মাছের শুঁটকি আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি শুঁটকি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং লইট্টা শুঁটকি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন তাঁর দোকানে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শুঁটকির পাশাপাশি জমজমাট কাঁচা মাছের বাজারও। কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী রুপম বড়ুয়া বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে বাজারে মাছের প্রচুর চাহিদা। প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা, মলা ৩০০-৩৫০ টাকা, মাইট্টা ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৩৪০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে উৎসবের নতুন আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে তৈরি পোশাক ও জুতার দোকানগুলোতেও। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে মুখরিত বস্ত্রবিতানগুলো। 

কাশেম ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মীর কাশেম জানান, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার শার্ট, প্যান্ট ও থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুদের পোশাকের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। একইভাবে নাজিম শু স্টোরের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন জানান, দৈনিক গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার জুতা ও ব্যাগ বিক্রি করছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই মারমা সম্প্রদায়ের মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে শুরু হওয়ায় পুরো রুমা বাজারে বাণিজ্যের সুবাতাস বইছে। উৎসবকে ঘিরে জমে ওঠা এই প্রাণচাঞ্চল্য ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।