নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৩ এএম
শেয়ার করুন:
নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে। 

যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) প্রস্তুতকৃত ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে এ তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালিত হয়। অনুসন্ধানকালে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের তুলনায় ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল সাধারণত শান্তিপূর্ণ এবং এতে সংঘাত ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অনেক বেশি উন্মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারছে। ফলে নাগরিকদের নিজস্ব মতামত প্রকাশ, উন্মুক্ত আলোচনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পরিসর আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পুলিশের বরাতে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষ সামগ্রিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। বড় বড় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইতিবাচক পদক্ষেপও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে, তা মূলত স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ; যার প্রভাব জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সীমিত।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এ ধরনের ২১ হাজারেরও বেশি মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সার্বিকভাবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবেদনে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস, মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকারের বিস্তার, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার একটি ইতিবাচক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।