১৭ ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফন, কবর খুঁড়লেন নারীরা

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
১৭ ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফন, কবর খুঁড়লেন নারীরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে গভীর রাতে দাফন করা হয়েছে। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিবারের নারী সদস্যরা নিজেরাই কবর খুঁড়ে তার দাফনকাজ সম্পন্ন করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এই দাফন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে প্রায় দুই মাস অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা ও জামায়াত নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে। 

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে রাখে। সেখানে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা মরদেহ রাখার পর রাত ১টার দিকে পুলিশের কড়া পাহারায় তা গ্রামের বাড়ি চিতলিয়ায় পাঠানো হয়।

দাফনকালে চরম এক অসহায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানান নিহতের বোন। তিনি বলেন, “টুঙ্গিপাড়া থেকে ভাইয়ের মরদেহ আনার পর থেকেই চরম ঝামেলা শুরু হয়। আমরা একবার কবর খুঁড়লে স্থানীয় লোকজন এসে তা ভরাট করে দেয়। পরবর্তীতে আমরা নিজেরাই আবার কবর খুঁড়ি। কোনো পুরুষ মানুষ এগিয়ে না আসায় পুলিশ লাশ নিয়ে আসার পর আমরা পরিবারের নারীরা মিলেই ভাইকে মাটি দিয়েছি।”

তবে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত বা সহযোগী কোনো সংগঠনের নেতাকর্মী বাধা দেয়নি। জামায়াতে ইসলামী মরদেহের রাজনীতি করে না। বরং সদর থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহায়তা করে মরদেহ দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রথমে যশোর এবং পরবর্তীতে টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে ছিলেন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।