নওগাঁর ধামইরহাটে বৃদ্ধা হালিমা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫, আলামত উদ্ধার

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁর ধামইরহাটে বৃদ্ধা হালিমা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫, আলামত উদ্ধার

নওগাঁর ধামইরহাটে ক্লুলেস হালিমা বেগম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মামলা দায়েরের মাত্র এক দিনের মাথায় উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। জমিজমা, গরু-ছাগল ও সোনার কানের দুলের লোভে আপন ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রীর পরিকল্পনায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও ভাবিসহ জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), ধামইরহাটের বস্তাবর গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৯) এবং ছিলিমপুর গ্রামের হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড় সংলগ্ন ধানখেতের আইল থেকে হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে মরদেহটি পড়ে ছিল। নিহতের এক কানের লতি কাটা এবং অন্য কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় দেখে শুরুতেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্য-প্রযুক্তি ও স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ভাই মজনু রহমান ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া অপর তিন সহযোগী রবিউল, হামিদুর ও মোশারফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত হালিমা বেগম নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন। বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পৈতৃক ভিটায় ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পেছনে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একা বসবাস করতেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হালিমার সামান্য জমিজমা, গবাদিপশু ও সোনার কানের দুলের ওপর নজর পড়ে ভাই মজনু ও তাঁর স্ত্রীর। এ ছাড়া এলাকায় মাদক বিক্রিতে হালিমা বাধা দেওয়ায় স্থানীয় একটি চক্রের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এসবের জেরে প্রায় পাঁচ দিন আগে ভাই মজনু ও তাঁর স্ত্রী অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে হালিমাকে হত্যার ছক আঁকেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামি হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। এরপর সবাই মিলে তাঁর মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে এবং পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর কানের দুল নেওয়ার জন্য নির্মমভাবে তাঁর এক কানের লতি কেটে ও অপরটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। লুণ্ঠিত কানের দুলের একটি মজনু এবং অন্যটি হামিদুর ভাগ করে নেন। এরপর মরদেহ বাঁশঝাড়ের পাশে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।