অফিস সহায়ক দিয়ে প্রশাসকের বাসার কাজ, ‘না গেলে চাকরি থাকবে না’

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৩ এএম
শেয়ার করুন:
অফিস সহায়ক দিয়ে প্রশাসকের বাসার কাজ, ‘না গেলে চাকরি থাকবে না’

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় দাপ্তরিক কাজের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়কদের দিয়ে পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত গৃহস্থালির কাজ করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। 

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস। এছাড়া কর্মচারীদের বাসায় পাঠানোর পেছনে সহায়তাকারী ও চাকরিচ্যুতির হুমকিদাতা হিসেবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের নাম উঠে এসেছে।

জানা গেছে, নড়িয়া পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী ও নাসিমা বেগমের মূল দায়িত্ব দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করা। তবে রিতা রানীকে নিয়মিত এবং নাসিমা বেগমকে মাঝেমধ্যে পৌর প্রশাসকের বাসায় ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত রাখা হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে নিয়মিত কর্মঘণ্টায় রিতা রানীকে পাওয়া যায়নি। অন্যান্য কর্মচারীরা জানান, তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে হাজিরা দিয়েই সোজা পৌর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে গৃহস্থালি কাজ শেষ করে দুপুর ১টার দিকে আবার অফিসে ফেরেন। 

দুপুর ১টার দিকে পৌর কার্যালয়ে ফিরলে বিষয়টি নিয়ে রিতা রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, প্রশাসকের বাসা থেকেই কাজ শেষ করে ফিরছেন। সপ্তাহে কত দিন সেখানে যেতে হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।’ 

পৌরসভার আরেক অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝেমধ্যে একই উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক কর্মচারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অফিস সহায়করা দিনের বড় একটি অংশ প্রশাসকের বাসায় ব্যস্ত থাকায় পৌরসভার নিয়মিত প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবামূলক কাজে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, পৌর প্রশাসক একা একটি ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকায় তার অনুরোধে মাঝে মাঝে রিতাকে সেখানে পাঠানো হয়। তবে চাকরি হারানোর হুমকির অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস পৌরসভার কর্মীকে বাসায় নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ছোট একটি বাচ্চা নিয়ে একা থাকি। বাসায় স্থায়ী কাজের লোক থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে রিতাকে আমার মেয়েকে একটু দেখার জন্য নিতে বাধ্য হই।’ সরকারি অফিস সহায়ককে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী এটা আমি পারি না, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়েছি। এটি একটি ছোট বিষয়, ভবিষ্যতে তাকে আর বাসায় নেব না।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা যায়; কারণ তিনি একা থাকেন এবং তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে পৌরসভা আমার সরাসরি অধীন না হলেও লাকি দাস আমার একজন সহকর্মী। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি যেন ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ না করেন, সে বিষয়ে তাকে অবগত করা হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।