স্বামীর পছন্দের নারীকে নিজেই সতীন করে ঘরে তুললেন রুমা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৯ এএম
শেয়ার করুন:
স্বামীর পছন্দের নারীকে নিজেই সতীন করে ঘরে তুললেন রুমা

স্বামীর অন্য কোনো নারীর প্রতি ভালোলাগার কথা শুনলে সাধারণ সংসারে যেখানে অশান্তি ও কলহ শুরু হয়, সেখানে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেখা গেছে একেবারেই এক বিরল দৃষ্টান্ত। স্বামীর পছন্দকে অম্লানবদনে মেনে নিয়ে সেই নারীকেই নিজ উদ্যোগে বিয়ে করিয়েছেন প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার। শুধু তাই নয়, নতুন স্ত্রীকে সতীন হিসেবে নিজের সংসারে তুলে নিয়ে বর্তমানে একই ছাদের নিচে সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবন যাপন করছেন তারা।

ঘটনাটি কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা হরিণহাটি এলাকার। আব্দুর রহমান নামের ওই ব্যক্তি বর্তমানে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একই ভাড়া বাসায় সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার ঝরা বর্ষা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৬ সালে গাজীপুরে আসেন। প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে রুমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে। সংসার ভালোভাবেই চলছিল; কিন্তু প্রায় চার বছর আগে আব্দুর রহমান স্ত্রী রুমাকে জানান, নাজনীন সুলতানা নামের এক নারীকে তাঁর ভালো লাগে।

স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে বিরোধ বা পারিবারিক কলহে না জড়িয়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেন রুমা আক্তার। স্বামীর ভালোলাগার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নিজেই নাজনীনকে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে আব্দুর রহমানের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এরপর নাজনীনকে সতীন হিসেবে নিজ ঘরে বরণ করে নেন।

বর্তমানে রুমা ও নাজনীন একই বাসায় মিলেমিশে সংসার সামলাচ্ছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরের কাজকর্ম ভাগাভাগি করে নেওয়া, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া এমনকি কোথাও ঘুরতে গেলেও তাঁরা একসঙ্গেই যান। নাজনীন সুলতানারও একটি সন্তান রয়েছে। 

ব্যতিক্রমী এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে রুমা আক্তার বলেন, *"আমার স্বামী একদিন নাজনীনকে ভালো লাগার কথা আমাকে জানান। আমি তাঁর পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেই তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করি। এখন আমরা তিনজন বেশ সুখেই আছি। একই হাঁড়িতে রান্না করি, একসঙ্গে খাই এবং ঘুরে বেড়াই।"*

তবে দুই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হলে আব্দুর রহমানকে প্রায়ই পথচারী ও পরিচিতদের নানা মন্তব্য ও কৌতূহলী প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এসব বিষয়ে আব্দুর রহমান বলেন, *"বাইরে বের হলে অনেকেই নানা কথা বলেন। তাঁদের আমি বলি, অন্যের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বৈধ বিয়ে করা অনেক উত্তম। আমি আমার দুই স্ত্রীকেই সমান চোখে দেখি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দুজনের প্রয়োজন সমানভাবে মেটানোর চেষ্টা করি।"*

একই সংসারে দুই সতীনের এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে আশপাশের মানুষের বিস্ময় ও কৌতূহলের কমতি নেই। তবে সমাজের মানুষের কটূক্তি কিংবা বাঁকা মন্তব্যকে উপেক্ষা করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুর রহমান, রুমা ও নাজনীন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।