৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথ, সাড়ে তিন বছরে চলেনি একটি ট্রেনও

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৫ এএম
শেয়ার করুন:
৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথ, সাড়ে তিন বছরে চলেনি একটি ট্রেনও

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডের ভারী যন্ত্রপাতি ও পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ উদ্বোধনের সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি কোনো বাণিজ্যিক ট্রেন। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ ও আধুনিক রেলস্টেশনটি এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রেললাইনের বিভিন্ন অংশ ঢেকে গেছে কাশবন, ঘাস ও লতাপাতায়।

প্রকল্পের পটভূমি ও ব্যয় 
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলে। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ এবং ‘রূপপুর’ নামে একটি আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়। 

প্রকল্পটিতে ১৩টি লেভেল ক্রসিং, ৭টি বক্স কালভার্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক ‘কালার লাইট সিগন্যালিং’ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। এতে সরকারের মোট ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই রেলপথ ও রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র  
উদ্বোধনের পর মাঝেমধ্যে দু-একটি খালি মালবাহী ওয়াগন এবং রেল কর্মকর্তাদের মোটরট্রলি ছাড়া নিয়মিত কোনো ট্রেন এ পথে চলেনি। সম্প্রতি সরেজমিনে রূপপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা দৃষ্টিনন্দন এই স্টেশনটি প্রায় জনমানবহীন। 

স্টেশনের টিকিট কাউন্টার, মালামাল বুকিং কক্ষ, ভিআইপি লাউঞ্জ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার এবং স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ প্রায় সব কক্ষই তালাবদ্ধ। প্ল্যাটফর্মে ধুলোবালির আস্তরণ জমেছে। স্টেশনের ইয়ার্ডে কেবল ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কিছু নতুন ওয়াগন ও কোচ নিরাপত্তার স্বার্থে এনে রাখা হয়েছে। 

স্টেশনে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য জানান, স্টেশন থেকে বের হওয়ার সংযোগ সড়কটি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে ভারী মালামাল আনা-নেওয়া করা ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত এই জটিলতার কারণেই মালামাল লোড-আনলোডের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ক্ষোভ  
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কোনো কাজে না আসা অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় পুরো এলাকাটি একরকম ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই রেলপথটি কার্যকর করার দাবি জানান।

রেলওয়ের বক্তব্য
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, এ রেলপথে এখনও বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। 

অন্যদিকে, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, “রেলপথ ও স্টেশনটি মূলত রূপপুর প্রকল্পের মালামাল আনা-নেওয়ার জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ব্যবহারের মূল এখতিয়ার প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে হয়তো ব্যবহার হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে প্রকল্পের প্রয়োজনে এর ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা যায়।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।