বাগেরহাটের ৬৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের ৬৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

বাগেরহাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি—অর্থাৎ ৬৭২টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে জেলার ১৮৮টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাজ চালানো হচ্ছে। 

উপজেলাওয়ারী শূন্য পদের চিত্র:
জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় সর্বত্রই এই সংকট বিদ্যমান। পরিসংখ্যানে দেখা যায়—  
মোড়েলগঞ্জ:১২৫টি  
রামপাল: ৯২টি  
বাগেরহাট সদর: ৮৫টি  
শরণখোলা: ৮৩টি  
মোল্লাহাট: ৭০টি  
চিতলমারী: ৬৭টি  
মোংলা: ৫৪টি  
ফকিরহাট: ৫০টি  
কচুয়া: ৪৬টি  

দ্বিমুখী চাপে শিক্ষকরা, অভিভাবকের উদ্বেগ:  
মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ২৮১ নম্বর পূর্ব বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে ৯৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক দায়িত্বও একাই সামলাতে হচ্ছে। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে প্রশাসনিক দিকটি তিনি দেখতেন, আমরা পুরোপুরি ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারতাম। এখন দুটো একসঙ্গে চালাতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।”

পলাশ শেখ নামে এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজের চাপে তাদের শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ওপর পড়ছে। বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

জাতীয় প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক সংকট শুধু বাগেরহাটে নয়, দেশজুড়েই প্রকট। বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ের পর সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এই পদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরীন আকতার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্যদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। আশা করছি, পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধান হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।