নুসরাতের গায়ে আগুন লাগার রহস্য থেকেই গেল: শিশির মনির

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১১ পিএম
শেয়ার করুন:
নুসরাতের গায়ে আগুন লাগার রহস্য থেকেই গেল: শিশির মনির

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ঠিক কীভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে চারজন বোরকাপরা নারীর কথা উল্লেখ করেছিলেন। অথচ রায়ে দেখা গেল সেখানে একজন নারী এবং বাকি তিনজন পুরুষ। জবানবন্দির সঙ্গে আসামিদের এই অমিল একটি বড় রহস্য। 

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল ছিল সাইক্লোন সেন্টারের তিনতলা। সেখানে কীভাবে আগুন লাগল—আশপাশের কেউ কিছু দেখল না, কোনো শব্দও শুনল না; একা একাই কি আগুন লেগে গেল? এই বিষয়টির রহস্য থেকেই গেল। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব এবং আশা করি সেখানে এই রহস্য উন্মোচিত হবে।”

তদন্তের দুর্বলতা ও তথ্যপ্রমাণের ঘাটতি তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, “ঘটনাস্থলে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। ছয় বছর আগের সেই ক্যামেরার অস্তিত্ব এখনো আছে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউশন সেই সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেনি এবং আদালতে উপস্থাপনও করেনি। এই ফুটেজটি আদালতে এলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সহজ হতো এবং মামলার মোড় ভিন্ন হতে পারত।”

এ ছাড়া নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির মূল ভিডিও ও অডিও ফুটেজ আদালতে দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

হাইকোর্টের রায়ের বিবরণ:
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিচারিক আদালত এ মামলার ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল (২ জন): সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৪ জন): সাইফুর রহমান জুবায়ের, উম্মে সুলতানা পপি, নুর উদ্দীন ও সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ।
খালাসপ্রাপ্ত (১০ জন): সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

বিচারিক আদালত নিয়ে পর্যবেক্ষণ: 
আইনজীবী শিশির মনির জানান, বিচারিক আদালত যেভাবে ঢালাওভাবে ১৬ জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন, সেটিকে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে রায় প্রদানকারী বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি আরও জানান, তিনি কামরুন নাহার মনি, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও মোহাম্মদ শামীমের আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে মনি ও শামীম খালাস পেলেও জুবায়েরের যাবজ্জীবন হয়েছে। জুবায়েরের ন্যায়বিচারের জন্য তারা দ্রুতই উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগে) যাবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।