তিতাস কর্মচারীর পাহারায় রাতের আঁধারে যাত্রাবাড়ীতে গ্যাসের অবৈধ লাইন

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
তিতাস কর্মচারীর পাহারায় রাতের আঁধারে যাত্রাবাড়ীতে গ্যাসের অবৈধ লাইন

সারাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে ‘২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস’ সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার রমরমা বাণিজ্য। বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে রাতের আঁধারে যাত্রাবাড়ীর সুতিরখালপাড় ও বিবিরবাগিচা এলাকার দুই শতাধিক বাড়িতে এই অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মচারী সবুজ হোসেনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে তার সহযোগী ঠিকাদার জাহাঙ্গীর এই কাজ সম্পন্ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় বৈধভাবে যতটুকু গ্যাস সচল ছিল, তাও পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালাদের সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে তিতাস কর্মচারী সবুজ হোসেন এবং ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, সুতিরখালপাড় এলাকার দায়িত্ব সামলান জাহাঙ্গীর এবং বিবিরবাগিচা এলাকার তদারকি করেন সবুজ। ইতিমধ্যে সুতিরখালপাড় ও বিবিরবাগিচার ১ ও ২ নম্বর সড়কের শতাধিক বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তুলেছেন জাহাঙ্গীর, আর তিতাস অফিস ‘ম্যানেজ’ করার দায় নিয়েছেন সবুজ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গভীর রাতে বিবিরবাগিচার সবুজ ছায়া স্কুল ও মক্কা বিল্ডিং সংলগ্ন সড়কে প্রকাশ্যে রাস্তা খুঁড়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজ করতে দেখা যায় জাহাঙ্গীরের শ্রমিকদের। সে সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হলে তিতাস কর্মচারী সবুজ হোসেন টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিবিরবাগিচার ২ নম্বর রোডের এক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো গ্যাস না পেয়ে তারা বাধ্য হয়েই সিন্ডিকেটের দাবিকৃত টাকা দিয়ে এই সংযোগ নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তিতাস কর্মচারী সবুজ হোসেন নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমি তিতাসে চাকরি করি, তবে এই কাজের সঙ্গে জড়িত নই। কাজটা ঠিকাদার জাহাঙ্গীর করেছেন এবং টাকাপয়সাও তিনিই তুলেছেন।” ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ও সাংবাদিকদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাড়ি ওই এলাকায় হওয়ায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি অবৈধ হওয়ায় তিতাস অফিস যে কোনো সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে বলে তিনি বাড়িওয়ালাদের সতর্ক করেছিলেন।

অন্যদিকে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রতি ফুট পাইপের খরচ ও শ্রমিকদের মজুরি বাবদ এই টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এটিকে নতুন সংযোগ বলতে নারাজ তিনি। তার দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো লাইনে গ্যাস না থাকায় গ্রাহকদের অনুরোধে সংস্কার কাজ করে নতুন পাইপ বসিয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হাসান আহম্মদ বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে দাপ্তরিক অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।