মহান শিক্ষা দিবস আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫১ এএম
শেয়ার করুন:
মহান শিক্ষা দিবস আজ

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ঐতিহাসিক মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এ দেশের ছাত্রসমাজ। রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়ে শিক্ষার অধিকার রক্ষার সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে স্মরণে রেখে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শরীফ কমিশন ও আন্দোলনের পটভূমি
১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শিক্ষা সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট এই কমিশন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ইতিহাসে ‘শরীফ কমিশন রিপোর্ট’ নামে পরিচিত। 

এই প্রতিবেদনে সার্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার বিরোধিতা করে শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব করা হয় এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্স তিন বছর করার সুপারিশ রাখা হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এই সুপারিশগুলোকে শিক্ষা সংকোচন এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার নীলককশা হিসেবে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

রাজপথের প্রতিরোধ ও রক্তদান
১৯৬২ সালের আগস্ট থেকে শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক ছাত্রসভা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেওয়া হয়।

কর্মসূচির দিনে সকাল থেকেই ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে পিকেটিং ও মিছিল শুরু করে। দ্রুতই এই আন্দোলনে রিকশাচালক, শ্রমিক, বাস কন্ডাক্টরসহ সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আন্দোলন দমনে শাসকগোষ্ঠীর পুলিশ বাহিনী মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র বাবুল। এছাড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন বাস কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াজিউল্লাহও মৃত্যুবরণ করেন।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য
ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়ে শরীফ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন কেবল একটি শিক্ষানীতি বাতিলের লড়াই ছিল না; বরং তা বাঙালির জাতীয় স্বাধিকার ও স্বাধিকার আন্দোলনের ভিতকে আরও সুদৃঢ় করেছিল। 

স্বাধীন বাংলাদেশে আজও সবার জন্য সুলভ, বিজ্ঞানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রেরণার এক অনন্য প্রতীক হয়ে রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।