যা লেখা আছে চুপ্পুর পদত্যাগপত্রে

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
যা লেখা আছে চুপ্পুর পদত্যাগপত্রে

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

শারীরিক গুরুতর অসুস্থতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন। 

পদত্যাগপত্রের মূল বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট

পদত্যাগপত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে এক ধরনের শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনি মতামত কামনা করেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে। দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

পদত্যাগের প্রধান কারণ: শারীরিক অসুস্থতা

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি বর্তমানে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি লেখেন:
"আমি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। পূর্বে আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসকদের শারীরিক পরীক্ষায় আমার ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক ব্যাধি শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলি (অচেতন হয়ে পড়ি)।"

তিনি জানান, এসব রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।

সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ

গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে পদের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা প্রকাশ করে পদত্যাগপত্রের শেষাংশে তিনি লেখেন:
"এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।"

সর্বশেষ অবস্থা:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।