বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধি একদিন বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে অনন্য উচ্চতায় আসীন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একুশে পদকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, "স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই সম্মাননা প্রবর্তন করেছিলেন। এটি কেবল একটি পদক নয়, বরং আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়গুলোর জীবন্ত স্মারক।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পদকের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্ম শিল্প-সাহিত্য ও গবেষণায় নিবেদিতপ্রাণ গুণীজনদের সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
পুরস্কারের পরিধি বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে এই পদক যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই প্রসার একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য ইতিবাচক।
শিক্ষা ও শিল্পকলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শিক্ষা, গবেষণা কিংবা শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। আমরা এমন একটি উদার গণতান্ত্রিক ও নৈতিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দেশ সমানভাবে এগিয়ে যাবে।"
ফেব্রুয়ারি মাসকে আত্মপরিচয় ও শেকড় সন্ধানের মাস হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একুশ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার বীজমন্ত্র। এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ করে ৭৫ বছরে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সকল ভাষা শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি এ বছর পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের সৃজনশীল ও কল্যাণময় দীর্ঘ জীবন কামনা করেন। পরিশেষে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্ব জয় করবে—এমন দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ