এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য। ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ময়নাতদন্ত নিয়ে মানবিক ও আইনি সংকট
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের জানান, নবজাতকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত জরুরি হলেও বিষয়টি নিয়ে মানবিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “একজন বাবা আমাকে মৃত শিশু দেখিয়ে প্রশ্ন করেছেন— এই ছোট্ট শরীরের কোথায় ময়নাতদন্ত করবেন? আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি। এটি মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেব।”
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে থাকা শিশুদের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে তাদের দ্রুত এনআইসিইউ-তে নেওয়া হয়। সেখানে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বাকি চার শিশু ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যায়।
মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, “শিশুরা জন্মের পর সুস্থ ছিল। ওই ওয়ার্ডে কোনো ভেন্টিলেশন ছিল না। রাতে কোনো এক অভিভাবকের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এসি বন্ধ থাকায় গুমোট পরিবেশে শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে।”
তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও টেকনিক্যাল টিম সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি সিল করে আলামত সংগ্রহ করছে। এসির গ্যাস লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
অকাল হারানো এই ছয়টি প্রাণের মৃত্যুতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে এক ভারী পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারি আর বিচার পাওয়ার আকুতি এখন মগবাজার এলাকার আকাশে-বাতাসে।
এপ্রিল ১২, ২০২৬
জুন ৬, ২০২৬
জানু ২৫, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ১১ জুলাই, ২০২৬
বান্দরবান | ১১ জুলাই, ২০২৬
বান্দরবান | ১১ জুলাই, ২০২৬
নীলফামারী | ১১ জুলাই, ২০২৬
রাজবাড়ী | ১১ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।