শুভেন্দুর কথামতো মূল অভিযুক্তকে ধরেই ‘গুলি করে হত্যা’

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ জুলাই, ২০২৬ ১:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
শুভেন্দুর কথামতো মূল অভিযুক্তকে ধরেই ‘গুলি করে হত্যা’

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার তদন্ত ও দৃশ্য পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে প্রভাস এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার পর প্রভাসকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের বিবরণ ও ‘এনকাউন্টার’
বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। গাড়ি থেকে নামানোর পর তিনি আকস্মিকভাবে এক পুলিশ কর্মকর্তার সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে তাঁকে সতর্ক করে। কিন্তু তিনি ক্ষান্ত না হওয়ায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। 

মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং গোটা বিষয়টির ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আলোচনা
নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে উত্তরপ্রদেশ ও আসামের আদলে পশ্চিমবঙ্গে এই ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পূর্বে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের শুধু আদালতে পাঠানো হবে না, বরং যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে কঠোর ও ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বারুইপুরের এই ঘটনায় সেই রূপরেখারই প্রতিফলন দেখা গেল বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তের এই ‘এনকাউন্টার’ সম্পন্ন হলো।

তদন্ত ও জবানবন্দি
পুলিশ জানায়, তদন্তে সহায়তার ভান করে প্রথম দিকে প্রভাস গ্রামবাসীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারেও তিনি অংশ নেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে প্রভাস জানান, মাত্র ১০ হাজার টাকার লোভে তিনি ওই কিশোরীকে অপহরণ করেছিলেন। যৌন নির্যাতনের পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও জানা গেছে, পানিতে ডুবেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।

অন্যান্য গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
এই মামলায় মঙ্গলবার রাতে চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে ঘটনার সাথে জড়িত মূল চারজনই আইনের আওতায় এসেছে, যাদের মধ্যে মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হলো। 

এদিকে, গত রোববার সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর বারুইপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইন অবরোধ করেন এবং পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালান। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।