ফোন করে লাল কার্ড বাতিল করালেন ট্রাম্প, তবু হারল যুক্তরাষ্ট্র!

অনলাইন ডেস্কঃ
৮ জুলাই, ২০২৬ ৩:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ফোন করে লাল কার্ড বাতিল করালেন ট্রাম্প, তবু হারল যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠের লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাঠের হারের চেয়েও ফুটবল বিশ্বে এখন বড় আলোচনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যকার এক বিতর্কিত ফোনালাপ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করতে ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা চলছে ক্রীড়াঙ্গনে। 

বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক কলামে এই পুরো ঘটনাকে ব্যঙ্গাত্মক ও ঝাঁজালো ভাষায় তুলে ধরেছেন কলামিস্ট মেরিনা হাইড।

ট্রাম্পের ‘হোয়াইটহাউসারি’ ও মাঠের নোংরামি
ফুটবল মাঠে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার নোংরা কৌশলকে অনেক সময় ‘শিটহাউসারি’ বলা হয়ে থাকে। তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে লেখক আখ্যা দিয়েছেন ‘হোয়াইটহাউসারি’ বা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে। 

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে লাল কার্ডের কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলেন মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটাতে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিন তিনবার ফোন করেন। শুধু ফোন করাই নয়, ট্রাম্প গণমাধ্যমের সামনে বুক ফুলিয়ে স্বীকারও করেছেন যে, তিনি এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এমন অন্যায্য কাজে তিনি ‘বেশ পটু’। 

ফিফাও তাদের রহস্যময় ‘অনুচ্ছেদ ২৭’ প্রয়োগ করে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে প্রেসিডেন্টের এমন ‘প্রতারণামূলক’ তদবিরের পরও শেষ রক্ষা হয়নি; বেলজিয়ামের দারুণ পারফরম্যান্সের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। 

ব্লাটার ও উয়েফার তীব্র ক্ষোভ
ফিফার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও বর্তমান নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্লাটার কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “রাজনৈতিক ফোনে কখনো লাল কার্ড বাতিল হতে পারে না। লাল কার্ড বাতিল করার নির্দিষ্ট নিয়ম, প্রমাণ ও স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে।” 

অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা (UEFA) এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, “নিয়মের রক্ষকেরাই যখন নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন খেলার অখণ্ডতা হুমকিতে পড়ে এবং প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।” উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন, অযৌক্তিক ও অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

তদন্তের মুখে ফিফা
এই বিতর্কিত কাণ্ডের জেরে জল ঘোলা হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য ফোলারিন বালোগুন কাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে ফিফার বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন নৈতিকতা তদন্তের জোর দাবি তুলেছেন। 

সমালোচকরা বলছেন, ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের এই আঁতাত নতুন কিছু নয়। এর আগেও ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে বিতর্কিত এক ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দিয়েছিলেন, যার ঠিক দুই মাস পরই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। 

বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে রাজনৈতিক ক্ষমতার এমন নির্লজ্জ প্রদর্শন ফুটবলপ্রেমীদের গভীরভাবে আশাহত করেছে। তবে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই হারকে অনেকেই দেখছেন মাঠের বাইরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুটবলের নিজস্ব এক ধরনের সুবিচার হিসেবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।