গুইমারায় সশস্ত্র দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১ সংগঠক উদ্ধার

মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়িঃ
২৬ জুন, ২০২৬ ১০:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
গুইমারায় সশস্ত্র দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১ সংগঠক উদ্ধার

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের পাইনছং এলাকায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটনা বলে জানা যায়। 

সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনসূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জি-এর নেতৃত্বে দুটি বি-টাইপ টহল দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

দুর্গম পথ অতিক্রম করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইউপিডিএফ (মূল)-এর পোস্ট কমান্ডার জিমিত চাকমাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।

অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে ২টি দেশীয় পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন, ১টি খালি কার্তুজ, ১টি প্রিন্টার, ১টি লেমিনেটিং মেশিন, ইউপিডিএফের পতাকা ও ব্যানার, বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা, চাঁদা আদায় সংক্রান্ত রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিপত্র এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, জিমিত চাকমা গত বছর খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সংগঠক ছিলেন। এছাড়া বহুল আলোচিত রামসু বাজার সহিংসতা এবং তিন উপজাতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আহত জিমিত চাকমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।