বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব পদে আলোচনার শীর্ষে রিজভী

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব পদে আলোচনার শীর্ষে রিজভী

বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের পরবর্তী মহাসচিব পদে কে আসছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিএনপি পরিবারে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এ পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলটির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রায় নিশ্চিত হওয়াতেই এই নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি আর এ পদে থাকতে চান না। রাষ্ট্রপতির পদে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে দলীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রথম বা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে ভারমুক্ত করা হতে পারে।

আলোচনায় কেন রিজভী?

বিএনপির কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সার্বিক সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে রিজভীর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিগত সরকারের আমলে কঠিন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছিলেন। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি অত্যন্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাকেই দলের কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে চান।

আলোচনায় আরও যাদের নাম

মহাসচিব পদের দৌড়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হলেও দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করায় তৃণমূলের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ কিছুটা কম ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও গুঞ্জন হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে।

তৃণমূল ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রত্যাশা

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্পষ্টতই একজন ‘কর্মীবান্ধব ও পরীক্ষিত’ নেতাকে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান।

শামসুজ্জামান দুদু (ভাইস চেয়ারম্যান): “দলের চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন এবং দলের জন্য কার্যকর—এমন কাউকেই মহাসচিব করা হবে। তরুণ ও কর্মীবান্ধব নেতাকেই হয়তো প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (যুগ্ম মহাসচিব): “দল ও দেশের কল্যাণে ত্যাগী, বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বকেই বেছে নেওয়া হবে।”
মাঠপর্যায়ের নেতারা: বাঞ্ছারামপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মতে, বিগত ১৭ বছর রাজপথের দুঃসময়ে যেসব নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি সরকার পরিচালনায় যুক্ত থাকার কারণে এখন সংগঠন ও সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যেন দূরত্ব তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। রাজপথের সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার রূপান্তর পর্বে পুরো দেশের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সচল রাখতে রুহুল কবির রিজভীর মতো মাঠসংলগ্ন ও সার্বক্ষণিক রাজনীতিককেই বিএনপি নতুন গতি হিসেবে বেছে নিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।