মিরপুরে টিকাকেন্দ্রে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম
শেয়ার করুন:
মিরপুরে টিকাকেন্দ্রে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে ৫০ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ সেন্টারে মধ্যরাতে বর্বরোচিত হামলা, লুটপাট ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ হুঁশিয়ারি দেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” 

তিনি জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি শুক্রবারই সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাতের আঁধারে হওয়া এই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এছাড়া শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রমও পুরোদমে চলমান রয়েছে।

ভাঙচুরের ফলে সেবা ব্যাহত হওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসক আশ্বস্ত করে বলেন, স্থাপনাটি স্থায়ী ভবন না হয়ে টিনশেড হলেও সেখানে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেখানে সার্বিক সহযোগিতা বজায় থাকবে।

এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বা জমি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ থাকতেই পারে; তবে রাতের আঁধারে একটি চলমান টিকাকেন্দ্র এভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

মধ্যরাতে তাণ্ডব ও লুটপাট:
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আনুমানিক ২৫০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কেন্দ্রে চড়াও হয়। শুরুতেই তারা দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভবনে প্রবেশ করে। এরপর ক্লিনিকে থাকা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার ও নথিপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম এবং নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ চিকিৎসাসামগ্রী ও আসবাবপত্র লুট করে নেয়।

লুটপাট শেষে ভারী এক্সকাভেটর দিয়ে পুরো টিনশেড স্থাপনাটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় হামলাকারীরা।

কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার অভিযোগ করে বলেন, “মূলত প্রায় ১০ কাঠা মূল্যবান জমি দখলের অসৎ উদ্দেশ্যেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামালসহ অন্তত দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারের অংশীদারিত্বে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমরা এলাকার গরিব ও অসহায় মা-শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও প্রসূতি সেবা দিয়ে আসছিলাম। এই হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের ওপর এক নির্মম আঘাত।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।