'অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে দেখব’ বক্তব্যটি এডিট করা: সালথার ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯ এএম
শেয়ার করুন:
'অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে দেখব’ বক্তব্যটি এডিট করা: সালথার ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি

‘অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব’—এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা ওরফে রফিক মোল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটিকে ‘এডিটেড ও বিকৃত’ দাবি করে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা জানান, সম্প্রতি যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত একটি সভায় তিনি বক্তব্য দেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সেই বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কেবল খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই কাটছাঁট করা ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে সমর্থকদের তিনি অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেই তা যাচাই ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও সম্পাদনার পাশাপাশি বক্তব্যের আগে ও পরে কী বলা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। 

একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান এবং যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানান তিনি।

চেয়ারম্যানের পক্ষে স্থানীয়দের মানববন্ধন: 
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খারদিয়া কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই ভিডিওটি বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। এতে বক্তব্য দেন যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান হুমায়ুন খান, স্থানীয় সমাজসেবক ইলিয়াস কাজী, ইউনুস মাতুব্বর, তারা মিয়া, মুক্তার ফকির, জালাল শিকদার, আজাদ ঠাকুর, নুরু মোল্লা ও তৃষ্ণা আক্তারসহ আরও অনেকে।

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট:
৫৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম মোল্লা সালথার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের মেসের খানের ছেলে। দীর্ঘ ২২ বছর প্রবাসে কাটিয়ে ২০২০ সালে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ২টি মামলা চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।