এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রায় প্রতিদিনই এ রোগের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন। গত আগস্ট থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দুই মাসে উপজেলায় মোট ৫৪ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে আগস্ট মাসে আক্রান্ত ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল; পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে তাঁরাও বাড়ি ফিরেছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী (৪০) জানান, হঠাৎ তাঁর হাতে একটি ক্ষতের (ঘা) সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও তা সারছিল না। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
একইভাবে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত এলাকার সেলিম হোসেন (৩৩) জানান, গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর হাত কেটে যায়। পরে ওই স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হলে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে তিনি অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।
তাঁদের মতো উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগরের রোহান, হোসেনাবাদের আফরিন, সাদিপুরের মিনহাজ, আমদহের সুমন, গোয়ালগ্রামের রবিউল, রিফায়েতপুরের আসমান ও ইব্রাহিম এবং পচামাদিয়ার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক (প্রাণিবাহিত) সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। অসুস্থ গরু, মহিষ বা ছাগল জবাই, মাংস কাটা এবং চামড়া বা নাড়িভুঁড়ি নাড়াচাড়ার সময় এ জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শরীরে বা হাতে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
রোগটি প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এ ধরনের পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং খালি হাতে পশুর দেহাবশেষ নাড়াচাড়া না করার কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জানানো এবং মানুষের শরীরে সন্দেহজনক কোনো ক্ষত দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, "অ্যানথ্রাক্স মূলত গবাদিপশু থেকেই মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ পশু জবাই ও কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, গত দুই মাসে আক্রান্ত ৫৪ জনের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৪ জনের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। রোগটি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ফেব্রু ২২, ২০২৬
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৪
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বরিশাল | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।