এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সীমানা ও বসতবাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বয়োবৃদ্ধ নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের বাড়িঘর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে মামলার এজাহারের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১ নম্বর চিরাং ইউনিয়নের সাগুলী গ্রামে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করেন। ঘটনার দিন আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ একটি সামাজিক সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে বাদী পক্ষের লোকজনের হট্টগোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাদী পক্ষেরই এক ব্যক্তির ধাক্কায় বয়োবৃদ্ধা আছিয়া খাতুন (৭২) মাটিতে পড়ে যান। উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ধরাধরি করে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, আছিয়া খাতুন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া ও চরম হট্টগোলের উত্তেজনায় তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। কিন্তু এই আকস্মিক মৃত্যুকে পরবর্তীতে ‘পরিকল্পিত মারধর ও হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই মৃত্যুকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনার পর বিবাদী পক্ষের জায়গা-জমি ও বাড়িঘর দখলের উদ্দেশ্যে দা-ছেনিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। বৃদ্ধার মৃত্যুকে পুঁজি করে বিবাদী পক্ষের পুরুষশূন্য বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের এক গভীর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি নূরে আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে এটি শারীরিক আঘাতজনিত মৃত্যু নাকি ধাক্কা লেগে অসুস্থ হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু—তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করার সুযোগ নেই। থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছেন।”
এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
নেত্রকোনা | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
মাগুরা | ২৬ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।