সদরপুরে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্ছেদ হলো অবৈধ পার্কিং, ফুলের বাগানে সাজল বিদ্যালয়ের সীমানা

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৫ এএম
শেয়ার করুন:
সদরপুরে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্ছেদ হলো অবৈধ পার্কিং, ফুলের বাগানে সাজল বিদ্যালয়ের সীমানা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের বাবুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ গাড়ি পার্কিং অবশেষে উচ্ছেদ হয়েছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তৎপরতা এবং স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিনের নোংরা পরিবেশ বদলে গিয়ে সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেমন ফিরে পেয়েছে নান্দনিক রূপ, তেমনি শিক্ষার্থীদের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়টির সীমানা প্রাচীরের পাশটিতে ভাঙাচোরা গাড়ি, ধুলোবালি ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকত। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হতো এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হতে হতো তাদের। এই তীব্র অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে গত ১১ জুলাই সংবাদমাধ্যমে **"সদরপুরে স্কুলের বাউন্ডারিতে অবৈধ গাড়ি পার্কিং"** শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদটি প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হলে উচ্ছেদ হয় পার্কিং এলাকা। এরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও মনোরম করে তুলতে একযোগে উদ্যোগ নেয় স্কুল পরিচালনা কমিটি (এডহক কমিটি), স্থানীয় যুব সংগঠন ‘বাবুরচর তেরেনাম’, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল।

তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেওয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর সেখানে শোভাবর্ধনের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির বাহারি ফুলের চারা রোপণ করা হয় এবং গাছগুলোর সুরক্ষায় দেওয়া হয় শক্ত বেড়া। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের এই উদ্যোগে বিদ্যালয়ের চারপাশের রূপ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, "আগে প্রাচীরের পাশে ভাঙাচোরা গাড়ি পড়ে থাকত, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকত এবং দুর্ঘটনার ভয় থাকত। এখন সেখানে নতুন রঙের প্রাচীর আর ফুলের বাগান হয়েছে। বিদ্যালয়ে আসতেই এখন খুব ভালো লাগে।"

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছিলাম। সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার যুবসমাজ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ বিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলে গেছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও মানোন্নয়নে ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা কামনা করছি।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "যেখানে আগে গাড়ি পড়ে থাকত, আজ সেখানে ফুলের গাছ শোভা পাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সবসময় এমন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা উচিত।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও যুবসমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই নোংরা জায়গাটি আজ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।