মহাসড়ক অবরোধ, বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
মহাসড়ক অবরোধ, বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ

বাস শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদ ও মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা) চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করছেন বাস শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে বরিশাল থেকে ঢাকা এবং অভ্যন্তরীণ সব রুটের দূরপাল্লাসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর এলাকায় অভ্যন্তরীণ রুটের একটি বাসের চালক ও সহকারীকে (হেলপার) মারধর করেন মাহিন্দ্রা চালক ও শ্রমিকরা। এতে বাস শ্রমিক হাসানসহ অন্তত চারজন আহত হন। গুরুতর আহত হাসানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ ঘটনার পরই শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে বাস রেখে বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। এর আগে সোমবারও বানারীপাড়ায় মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

উভয় পক্ষের বক্তব্য: 
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল আইনত নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে হাজার হাজার মাহিন্দ্রা বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। বাধা দিলে প্রায়ই বাস শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “মহাসড়কে অসংখ্য অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। আমাদের দাবি, হামলাকারী মাহিন্দ্রা চালকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের বিআরটিএ লাইসেন্স দিয়েছে। অথচ বাস শ্রমিকরা প্রায়ই আমাদের চালকদের ওপর চড়াও হয়, মারধর করে এবং জোরপূর্বক মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী তুলে নেয়। আমরাও এ সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধান চাই।”

যাত্রী ভোগান্তি:  
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্তের হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। তীব্র গরমের মধ্যে নারী ও শিশুদের নিয়ে টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। পরিবহন না পেয়ে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা বা বিকল্প যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, “বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নথুল্লাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠানামা বন্ধের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।