কাপ্তাইয়ে ২ বছর ধরে সড়কের ওপর ১১ কেভির বৈদ্যুতিক তার, আতঙ্কে ৩৫ পরিবার

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
৯ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ে ২ বছর ধরে সড়কের ওপর ১১ কেভির বৈদ্যুতিক তার, আতঙ্কে ৩৫ পরিবার

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী দুর্গম পাড়ায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলাচলের একমাত্র সড়ক ও বসতঘরের ওপর হেলে ও ভেঙে পড়ে রয়েছে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি। ফলে চরম ঝুঁকি ও অকাল মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অন্তত ৩৫টি পরিবারের বাসিন্দারা।

রবিবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাড়ার প্রধান সড়কের ঠিক মাঝখানেই অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে ১১ কেভি (কিলোভোল্ট) ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বসতঘরের চালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির শঙ্কায় তটস্থ এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই খুঁটিগুলো মাটিতে ও ঘরের চালে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে। কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বারবার বিষয়টি জানানো হলেও তাঁরা কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন; কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী লাইনটি মেরামত করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পাড়ার হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে সেই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ আর কোনো খোঁজ নেননি।

পাড়ার অন্য বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি গরু ও ছাগল মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শিশু ও নারীসহ পুরো পাড়ার মানুষ এখন বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত এই নীরব মৃত্যুফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা বলেন, “কিছুদিন আগে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংবাদকর্মীদের বিষয়টি জানাই। ওই এলাকার মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র; তাঁদের পক্ষে নিজস্ব খরচে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা সম্ভব নয়। ঘুষের টাকা দিতে না পারায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে কোনো কাজই করেনি বিদ্যুৎ বিভাগ।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর অধীনস্থ কেউ তাঁকে এতদিন অবগত করেননি। তবে খুব দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।