আশুলিয়ায় গ্যাস লরি বিস্ফোরণে নারীসহ নিহত বেড়ে ৭, আহত অন্তত ২৫

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
আশুলিয়ায় গ্যাস লরি বিস্ফোরণে নারীসহ নিহত বেড়ে ৭, আহত অন্তত ২৫

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় গ্যাসবাহী লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ‘প্রীতি গ্রুপ’-এর প্রীতি নীট অ্যান্ড কম্পোজিট কারখানায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কারখানার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস লরির সিলিন্ডার হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে লরির ভেতরে থাকা পাঁচজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় লরি ও সিলিন্ডারের একটি অংশ উড়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের সামনে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক পথচারী নারীর ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জয়নব বেগম গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার ইসরকান্দির মো. আলীর স্ত্রী।

এদিকে দুর্ঘটনায় দগ্ধ ও গুরুতর আহত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি থাকা একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত জয়নব বেগমের মেয়ে জানান, তিনি জামগড়ায় একটি দোকানে দর্জির কাজ করেন। কয়েক দিন আগে তাঁর মা তাঁর বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন এবং তাঁর মা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং উড়ে আসা সিলিন্ডারের একটি অংশ মায়ের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় তাঁর ছেলেও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় জিরাবো ফায়ার স্টেশন। তবে বাইপাইল এলাকার তীব্র যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের ইউনিটসহ ফায়ার সার্ভিসের দল রাত ৭টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে লরিসহ আশপাশে থাকা ৫ থেকে ৬টি কাভার্ড ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন নেভানোর পর এলপিজি সিলিন্ডার ও কাভার্ড ভ্যানগুলো ঠান্ডা করার (কুলিং) কাজ চালানো হয়।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্যাস লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত। আগুন পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে পাঁচজন, বাইরে থেকে এক নারী এবং ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে নারী পথচারী ছাড়া বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।