দৌলতপুরে মুদি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: জমি বিরোধের জেরে পৌনে দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে মুদি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: জমি বিরোধের জেরে পৌনে দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীর মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার পণ্যসামগ্রী খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। 

গত ৪ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মশাউড়া গোলচত্বর এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সামাজুল ইসলাম (৪৪) বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে একই এলাকার মো. উকিল (৪৭), মো. ইমরান (৩৫), মোছা. মরজিনা খাতুন (৫৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সামাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাঁর জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা সামাজুলের বসতবাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানে হানা দেয়। তারা দোকানের তার ও বাঁশের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে ক্যাশ বাক্সের ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটে নেয়। 

এ সময় দোকানে থাকা সিগারেট, সাবান, শ্যাম্পু, ওয়াশিং পাউডার ও সয়াবিন তেলসহ আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার বিভিন্ন মুদি পণ্যও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নগদ টাকা ও মালামাল মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনার সত্যতা জানেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সামাজুল ইসলাম বলেন, "পূর্ববিরোধের জেরে শত্রুতাবশত পরিকল্পিতভাবে আমার দোকানে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।" তিনি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে রাতের আঁধারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় ব্যবসাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

(উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা দৌলতপুর থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।