ফরিদপুরে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশব্যাপী সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসির ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামের পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪), একই উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) এবং খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। জাহাঙ্গীর বর্তমানে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে পথিমধ্যে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে জোরপূর্বক ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগ পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চক্রের অন্যতম মূলহোতা চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য লিমন মিয়া ও তার সহযোগী সাখাওয়াতকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক ছিনতাই ও চুরি করে আসছিলেন। পরে এসব চোরাই ইজিবাইক মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) যাচাই করে দেখা যায়, লিমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

পরবর্তীতে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চোরাই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। 

ডিবি পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় একটি বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করেছিলেন। সেখান থেকে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল ও মোটরসাইকেলটি লুট করা হয়। জাহাঙ্গীর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরি করে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় বিক্রি করতেন বলে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, এটি একটি আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ বড় অপরাধী চক্র। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও সর্বস্বান্ত করত। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং বাকি চোরাই মালামাল উদ্ধারের স্বার্থে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।