গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
গাজী নজরুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা

রাজধানীর ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে মূল হোতা হিসেবে দায়ী করেছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, টাকার লোভেই ওবায়দুর তার মেয়েকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে জড়িয়ে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মেয়ের মরদেহের অপেক্ষায় থাকার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

কন্যা হারানোর শোকে ভেঙে পড়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আজকের এই চরম পরিণতির জন্য আমার শ্যালক ওবায়দুরই দায়ী। সেই মরিয়মকে এই অনৈতিক পথে নিয়ে এসেছিল। সে টাকার লোভে মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দিয়েছে।” ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “এমপির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর মেয়ে আমাদের চেয়ে এমপির সঙ্গেই বেশি যোগাযোগ রাখত। তবে ও প্রায়ই অনুশোচনায় ভুগে কাঁদত আর বলত—‘আমি সমাজে মুখ দেখাব কীভাবে? ওবায়দুর আমার আপন মামা হয়ে এত বড় ক্ষতি করবে ভাবতেই পারিনি। বাবার চেয়েও তাকে বেশি বিশ্বাস করে আজ আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম’।” 

গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কের দিক থেকে মাসুম বিল্লাহর আপন খালু হন। নিজের খালুর সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শুরুতে আমরা পরিবারের কেউ বিষয়টি বুঝতে পারিনি, অনেক পরে জানতে পেরেছি। কিন্তু ওর মামার লোভের কারণেই শেষ পর্যন্ত সবকিছু শেষ হয়ে গেল।” ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেগুলো মরিয়মের হাতের লেখা কি না তা তিনি নিশ্চিত নন।

**ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ:**  
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দুই স্ত্রীকে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাট থেকেই মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটেই উপস্থিত ছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম। পুলিশ সেখান থেকে মরিয়মের হাতে লেখা কয়েকটি চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা। 

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে বিষয়টি অবহিত করার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।