বিশ্বকাপে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নেচেছেন’ মার্কিন কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ৫:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নেচেছেন’ মার্কিন কর্মকর্তা

গ্রুপপর্বের কোনো ম্যাচে না হেরেও নাটকীয় সমীকরণের বেড়াজালে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে[1][4]। গ্রুপ 'জি'-এর তিনটি ম্যাচেই ড্র করায় শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হওয়ার অপেক্ষায় ছিল তারা[1][4]। কিন্তু অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি নাটকীয়ভাবে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় কপাল পোড়ে ইরানের[1][4]। অস্ট্রিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় নবম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় পারসিয়ানরা[4]। নাটকীয় এই ম্যাচ ও ইরানের বিদায় নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিক্সিংয়ের গুঞ্জনসহ নানা জল্পনা ডালপালা মেলেছে[1]।

এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার একটি মন্তব্য[3]। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইরানের বিদায়ে তিনি অত্যন্ত স্বস্তি পেয়েছেন[2]।

এক ব্রিফিংয়ে মুলিন বলেন, "ওরা বিদায় নিয়েছে এবং আর মার্কিন মাটিতে ফিরবে না জেনে আমি সত্যিই আনন্দিত[1][2]। আমরা তাদের ভিসা বাতিল করতে পেরেছি এবং তারা চলে যাচ্ছে জেনে আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে, হয়তো একটা-দুটো গান গেয়েছি, কিংবা খুশিতে একটু নেচেও উঠেছি[1][2][3]।" তিনি আরও দাবি করেন, টুর্নামেন্টের অন্য কোনো নির্দিষ্ট দলের পেছনে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীকে এত বেশি সময় ও শ্রম দিতে হয়নি, যতটা দিতে হয়েছে ইরানের পেছনে[2][5]।

মূলত দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক বৈরিতার প্রভাব পড়েছে খেলার মাঠেও[1][2][3]। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার জেরে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়েই একসময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল[1][3]। শেষ পর্যন্ত তারা অংশ নিলেও মার্কিন সরকার দলটির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে[3]। অ্যারিজোনায় ইরানের বেস ক্যাম্প করার কথা থাকলেও নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের ক্যাম্প করতে বাধ্য করা হয় মেক্সিকোর সীমান্ত শহর টিজুয়ানায়[1][2][3]। ম্যাচের আগের দিন কঠোর নজরদারির মধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো এবং ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই আবার মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হতো[1][2][3]।

মার্কিন প্রশাসনের এমন আচরণকে 'অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক' বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই[1][3]। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এই বিশ্বকাপে আমরাই ছিলাম সবচেয়ে নিপীড়িত দল[1][3]। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। প্রস্তুতির জন্য স্কোয়াডের যে ধরনের অনুশীলনের প্রয়োজন, আমাদের তার অর্ধেকেরও কম সুযোগ দেওয়া হয়েছে[3]।"

একই সুর শোনা গেছে দলটির তারকা স্ট্রাইকার ও অধিনায়ক মেহদি তারেমির কণ্ঠেও[1][3]। তিনি বলেন, "এই ধরনের রাজনৈতিক ও মানসিক চাপ বিশ্বকাপের সব আনন্দই ম্লান করে দেয়[3]। আমরা পা রাখার পর থেকেই অবিরত সেই চাপ অনুভব করেছি[3]।"

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তার এমন আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন[6]। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন বৈরী আচরণ এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য নতুন কিছু নয়[6]। বৈষম্যহীন ক্রীড়াঙ্গন বজায় রাখতে ফিফাকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ আয়োজক দেশগুলোর জন্য সম-আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা[3]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।