দৌলতপুর সীমান্তে মাদকের বেপরোয়া বিস্তার: মিলছে ‘হোম ডেলিভারি’, বাড়ছে অপরাধ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৩ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুর সীমান্তে মাদকের বেপরোয়া বিস্তার: মিলছে ‘হোম ডেলিভারি’, বাড়ছে অপরাধ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে অবাধে দেশে ঢুকছে বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর মাদকদ্রব্য। সীমান্ত পেরিয়ে আসা ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন ও ট্যাপেন্টাডলের মতো মাদক এখন ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার অলিগলিতে। শুধু তা-ই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক সিন্ডিকেট বেছে নিয়েছে অভিনব কৌশল—ফোনে অর্ডার করলেই মিলছে মাদকের ‘হোম ডেলিভারি’। 

ভারত সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দৌলতপুর দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারিদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি মাদক বিক্রির চেয়ে বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনকলের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে করে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত এলাকার আদাবাড়িয়া, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন অরক্ষিত পয়েন্ট এবং পদ্মা নদীর নৌপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার করা হচ্ছে। এমনকি দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ ও থানার আশপাশসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকাতেও মাদক বিক্রি ও সেবনের একাধিক স্পট সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

এদিকে মাদকের সহজলভ্যতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের টাকার জোগাড় করতে আসক্তরা রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প (মোটর), গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও গৃহস্থালির নানা সামগ্রী চুরি করছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ২৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ১৬১ কেজির বেশি গাঁজা, ২৫ হাজার ৭২ পিস ইয়াবা, ২ কেজির বেশি হেরোইন এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এছাড়া গত এক সপ্তাহেও সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মাদকসংক্রান্ত ১০৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৭৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান চললেও দুর্গম সীমান্ত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা বারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। সচেতন মহলের মতে, সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ও ‘হোম ডেলিভারি’ চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত নির্মূল করতে হবে। একই সঙ্গে বিপথগামী তরুণদের পুনর্বাসন ও সামাজিক সচেতনতা জোরদার না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।