যশোরের কেশবপুরে কোরবানির আকর্ষন ১০০ কেজির ‘টুকু’:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির এক ছাগল, যার নাম রাখা হয়েছে ‘টুকু’। প্রায় ১০০ কেজি ওজনের এই ছাগলটি বর্তমানে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ছাগল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ছাগলটির মালিক সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় ইব্রাহিম হোসেনের দাবি, এটিই যশোর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের ছাগল।
কেশবপুর উপজেলার চাঁদড়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন গত দুই বছর তিন মাস ধরে পরম যত্নে টুকুকে লালন-পালন করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে বেড়ে ওঠা এই ছাগলটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। ছাগলটিকে বড় করে তুলতে ইব্রাহিমের পাশাপাশি তার স্ত্রী মনিরা আক্তার মিরা এবং মেয়ে হাফসা মিমও দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, টুকুকে কোনো প্রকার কৃত্রিম ফিড খাওয়ানো হয়নি। বাড়ির পাশেই একটি কাঁঠাল বাগান করা হয়েছে তার খাদ্যের জোগান দিতে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে কাঁঠালের পাতা, মাঠের তাজা ঘাস, বাদাম, ছোলা, গমের ভূষি ও খৈল।
মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, "টুকু আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো হয়ে গেছে। তাকে খাওয়ানোর জন্য আমি আলাদা কাঁঠাল বাগান করেছি। বর্তমানে এর ওজন প্রায় ১০০ কেজি। আসন্ন কোরবানির জন্য আমি এর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছি, তবে আলোচনার সাপেক্ষে দাম কিছুটা কমানো যেতে পারে।"
টুকুর স্বভাবের কথা জানিয়ে স্ত্রী মনিরা আক্তার মিরা বলেন, "টুকু নাম ধরে ডাক দিলেই ও সাড়া দেয় এবং সামনে চলে আসে। আমাদের চোখের আড়াল হলেই ও ডাকাডাকি শুরু করে। আমার মেয়েই শখ করে ওর নাম রেখেছে টুকু।"
ছাগলটি দেখতে আসা প্রতিবেশী কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, "জীবনে অনেক ছাগল দেখেছি, কিন্তু এত বড় ছাগল এর আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। এই ছাগলটি এই এলাকার কোরবানির বাজারের প্রধান আকর্ষণ হবে বলে আমার বিশ্বাস।"
ঈদুল আযহার বাজার যত ঘনিয়ে আসছে, ১০০ কেজির এই ‘টুকু’কে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ততই বাড়ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে এমন বিশাল আকৃতির পশু পালন করে এলাকায় সফল খামারি হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ইব্রাহিম হোসেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ