ভারতে ঝড়-বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬: উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব

অনলাইন ডেস্কঃ
May 14, 2026 - 11:58
ভারতে ঝড়-বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬: উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব

ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির চরম তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ ঝড়, বজ্রপাত ও অকাল ভারী বৃষ্টিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার রাতভর চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ, ভাদোহি, ফতেহপুর ও প্রতাপগড় জেলা। ঝড়ের তীব্রতায় অগণিত গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে দ্রুততার সাথে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

জেলাভিত্তিক প্রাণহানির চিত্র:
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রয়াগরাজে সর্বোচ্চ ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ভাদোহিতে ১৬ জন, ফতেহপুরে ৯ জন, বদাউনে ৫ জন এবং প্রতাপগড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চন্দৌলি ও কুশীনগরে দুইজন করে এবং সোনভদ্র জেলায় একজন নিহত হয়েছেন। কানপুর দেহাত ও দেওরিয়াতেও বজ্রপাতে পৃথক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

প্রয়াগরাজ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার হান্ডিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি সাতজন মারা গেছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে গাছচাপা পড়ে, দেয়াল ধসে কিংবা সরাসরি বজ্রপাতের আঘাতে।

তছনছ জনপদ ও বিপর্যস্ত কৃষি:
ভাদোহি জেলায় ঝড়ের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রবল বাতাসে শত শত গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ফতেহপুরে দেয়াল ধসে এবং বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অবিনাশ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।

কানপুর দেহাতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় রুচি (১৯) নামে এক তরুণী বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃষ্টির সময় ছাগল নিয়ে একটি নিমগাছের নিচে আশ্রয় নিলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রবল এই বৃষ্টি ও ঝড়ে উত্তরপ্রদেশের কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গম ও সবজিক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। মুখ্যমন্ত্রী কৃষি ও রাজস্ব বিভাগকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ:
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে উত্তর ভারতে এমন তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত অত্যন্ত অস্বাভাবিক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই চরম আবহাওয়ার এমন ঘটনা বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow