১৬ বছর পর হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন ফ্রান্স প্রবাসী

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
১২ মে, ২০২৬ ৬:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
১৬ বছর পর  হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন ফ্রান্স প্রবাসী

দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে ফ্রান্স থেকে রাজকীয়ভাবে নিজ জন্মভূমিতে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ মমিন রনি। নিজের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে আজ (১২ মে) দুপুর ১টায় একটি চার্টার্ড হেলিকপ্টারযোগে তিনি নিজ গ্রামে অবতরণ করেন। তার এই ব্যতিক্রমী আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আজ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মমিন রনিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সিঙ্গারবিল বাজারের পশ্চিম পাশে নির্ধারিত একটি মাঠে অবতরণ করে। আকাশপথের এই রাজকীয় আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক নজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে আশপাশের কয়েক শত মানুষ সেখানে ভিড় জমান। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবার মাঝেই ছিল টানটান উত্তেজনা ও আনন্দ।

স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, কাশিনগর গ্রামের ইতিহাসে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। হেলিকপ্টার থেকে যখন প্রিয় সন্তান গ্রামের মাটিতে পা রাখেন, তখন যেন পুরো এলাকায় খুশির জোয়ার বয়ে যায়। এটি এলাকাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মমিন রনি হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম মিয়া ও মরহুমা সালেহা বেগমের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পরিবারের ছোট ছেলেকে কাছে পেয়ে বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

ছেলের ফিরে আসার আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে বাবা হাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে যে কী আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আজ যদি ওর মা বেঁচে থাকতেন, তবে আনন্দটা পূর্ণতা পেত। ১৬ বছর পর সন্তানকে দেখে চোখের যে পানি পড়ছে, তা কষ্টের নয় বরং পরম সুখের ও প্রশান্তির। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া যে, মৃত্যুর আগে ছেলেকে আবার বুকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছি।”

প্রবাসী মমিন রনির এই আগমনকে ঘিরে পুরো কাশিনগর গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রবাসজীবনের দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের পর নিজের শিকড়ে ফিরে আসার এই গল্প বিজয়নগরের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।