টিকা মেলেনি দুবার,এখন টিকা আছে কিন্তু মালিহা নেই
মাত্র ১১ মাস ১৭ দিনের একরত্তি প্রাণ মালিহা বিনতে মাহফুজ। যার ভুবনভোলানো হাসিতে মেতে থাকত পুরো পরিবার। গত রোজার ঈদে বাবা-মায়ের সঙ্গে সাভারের আশুলিয়া থেকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দাদার বাড়িতে গিয়েছিল সে। খুশির আমেজ ছিল সবার মনে। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দই মালিহার জীবনের শেষ উৎসবে পরিণত হবে?
দাদার বাড়িতে যাওয়ার পর হঠাৎ জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি আর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় মালিহার। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি হামে আক্রান্ত। এরপর শুরু হয় বাঁচার লড়াই। স্থানীয় চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকার আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মিরপুরের এম আর খান শিশু হাসপাতাল এবং সবশেষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পিআইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১২ এপ্রিল পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় মালিহা।
মালিহার বাবা মাহফুজুর রহমান গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার প্রকৌশলী। মেয়ের অকাল মৃত্যুতে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। একরাশ আক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, দুই মাস আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে মালিহাকে দুবার হামের টিকা দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ‘টিকা নেই’ বলে হাসপাতাল থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ হয়তো টিকা মিলছে, কিন্তু সেই টিকা নেওয়ার জন্য মালিহা আর বেঁচে নেই।
মালিহার দাদার বাড়িতে এখনও শোকের মাতম। ঘরের কোণে পড়ে আছে তার প্রিয় সেই গোলাপি জামাটি, খেলনাগুলোতে জমেছে ধুলো। মা আজও সেই খেলনাগুলো নিয়ে বসে থাকেন, যেন এই বুঝি হামাগুড়ি দিয়ে তার বুকের ধন কোলে ফিরে আসবে। বড় বোন ৪ বছরের মুসকান এখনও পথ চেয়ে থাকে, কখন তার ছোট বোন বাসায় ফিরবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন জানান, জেলায় হামের উপসর্গে এখন পর্যন্ত এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যে উল্লাপাড়ার বাসিন্দা হলেও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
একটি টিকার অভাব কীভাবে একটি সাজানো সংসার তছনছ করে দিতে পারে, মালিহার মৃত্যু যেন সেই নিষ্ঠুর সত্যেরই প্রতিচ্ছবি। হামের টিকা আজ হয়তো সহজলভ্য, কিন্তু মালিহার পরিবারের কাছে সেই টিকার আবেদন আজ অর্থহীন। মালিহা আর ফিরবে না, রয়ে যাবে কেবল তার অমলিন হাসির স্মৃতি আর পরিবারের অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ