মিরপুরে বাঘের গর্জন: নাহিদ রানার আগুন ঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানের দফারফা
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে রচিত হলো এক নতুন মহাকাব্য। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে টানা তিন টেস্টে পরাজিত করে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিল বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন দাপুটে সিরিজ জয় এর আগে দেখেনি লাল-সবুজের সমর্থকরা। ম্যাচের শেষ সেশনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। অসম্ভবকে সম্ভব করে গ্যালারি ভর্তি হাজারো দর্শককে সাক্ষী রেখে এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
নাহিদ রানার 'অগ্নিঝরা' প্রতিশোধ
এই অবিস্মরণীয় জয়ের নেপথ্য কারিগর তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। শাহাদাত হোসেন রাজিবের দীর্ঘ সময় পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে দেশের মাটিতে ৫ উইকেট (ফাইফার) নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি। তবে রানার এই ফাইফার প্রাপ্তি ছিল অনেকটা চলচ্চিত্রের রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্যের মতো। প্রথম ইনিংসে শাহীন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে কুপোকাত হয়েছিলেন রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে মোক্ষম সময়ে সেই শাহীন আফ্রিদিকেই এক দুর্দান্ত বাউন্সারে পরাস্ত করে নিজের প্রতিশোধ পূর্ণ করেন তিনি। শাহীনের সেই উইকেটটিই ছিল রানার ক্যারিয়ারের প্রথম ঐতিহাসিক ৫ উইকেটের মাইলফলক।
অধিনায়ক শান্তর সেঞ্চুরি: জয়ের আস্থার প্রতীক
পরিসংখ্যান বলছে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যখনই সেঞ্চুরি হাঁকান, বাংলাদেশ পরাজয় বরণ করে না। মিরপুর টেস্টেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শান্তর ব্যাট থেকে আসা অনবদ্য শতক টাইগারদের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল আগেই। গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, এই ম্যাচে টাইগারদের অ্যাটাকিং অ্যাপ্রোচ ও লড়াকু মানসিকতাই তার প্রমাণ।
টেস্টে নতুন সূর্যোদয়
একটা সময় টেস্ট ক্রিকেটে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ এখন বিশ্বমঞ্চে সমীহ জাগানিয়া এক দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই দাপুটে জয় কেবল একটি সিরিজ জয় নয়, বরং এটি টাইগারদের টেস্ট ক্রিকেটে পরিণত হওয়ারই বার্তা। মাঠের পারফরম্যান্স আর দর্শকদের উন্মাদনায় মিরপুর আজ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তানের অহংকার চূর্ণ করে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে খোলাচোখের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন!
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ