কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
May 12, 2026 - 13:16
কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উন্নয়ন কাজের ধীরগতি ও ঠিকাদারের চরম অবহেলায় প্রাণ গেল ইফাত (৬) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর। সোমবার (১১ মে) বিকেলে কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ড্রেনের গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত ইফাত ওই এলাকার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে এবং স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আদরের সন্তানকে হারিয়ে মা শারমিন আক্তার এখন পাগলপ্রায়। অন্যদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা কামরুল হাসান।

ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ইফাত তার চাচাতো ভাই সামাদের (১১) সঙ্গে ছাগল চড়াতে বাড়ি থেকে বের হয়। ঘণ্টাখানেক পর সামাদ একাই বাড়িতে ফিরে আসে। ইফাতকে না দেখে স্বজনরা তাকে খুঁজতে বের হন। বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা ব্যাংক কর্মকর্তা মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনের গর্তে ইফাতের স্যান্ডেল ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এক বছর ধরে ঝুলে আছে কাজ:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রেন নির্মাণের এই প্রকল্পটি গত এক বছর ধরে নামমাত্র খনন করে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই ড্রেনের জন্য গত বর্ষা মৌসুমে মাটি কাটা হলেও এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিনের জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এই খননকৃত অংশটি এখন মরণকূপে পরিণত হয়েছে। 

নিহত ইফাতের চাচা সামছুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঠিকাদার এক বছর আগে খাল কেটে রেখে গেছে, কিন্তু কাজ শেষ করেনি। সেখানে মানুষ সমান পানি জমে আছে। ঠিকাদারের এই খামখেয়ালিপনার কারণেই আজ আমার ভাতিজাকে অকালে মরতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।"

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, "আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে ঠিকাদারের স্পষ্ট অবহেলা দেখতে পেয়েছি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গর্ত খুঁড়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তলব করেছি এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলংগী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই ড্রেনের কাজ শেষ করে আর কোনো মায়ের বুক খালি হওয়া রোধ করা হোক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow