ইরানি তেল চীনে পাচারের অভিযোগ: ৩ ব্যক্তি ও ৯ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
চীনে অবৈধভাবে ইরানের তেল বিক্রয় ও পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১১ মে) দেশটির পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনজন ব্যক্তি এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান হংকংয়ের, চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এবং একটি ওমানের। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান একাধিক ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’ বা ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তেল চীনে পাচারের জন্য আর্থিক লেনদেন ও পরিবহনের যাবতীয় ব্যবস্থা করছিল।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে আইআরজিসির 'শহীদ পুরজাফারি অয়েল হেডকোয়ার্টার্স'-এর তিনজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কর্মকর্তারা ইরানের হয়ে অবৈধ তেল বাণিজ্য ও বিদেশে তা সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করতেন।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান সরকার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ তাদের দেশের জনগণের জনকল্যাণে ব্যয় না করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ব্যবহার করছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবারও ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। মূলত ইরানের অবৈধ অর্থ প্রবাহের পথ বন্ধ করতেই একের পর এক কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ