হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজা থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ সরবে না ইসরায়েল
হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজার বর্তমান অবস্থান বা ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী এক মিলিমিটারও পিছু হটবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়া সত্ত্বেও এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গাজায় ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা বলতে সেই সীমানাকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার পূর্বাঞ্চল থেকে সরে এসে অবস্থান নিয়েছিল। গত মাসে শুরু হওয়া পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমে এই রেখা থেকেও সরে আসার কথা। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় নতুন বাধার ইঙ্গিত মিলছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েদিওথ আহরোনাথ’ আয়োজিত এক সম্মেলনে কাটজ বলেন, ‘আমরা হামাসকে কোনোভাবেই টিকে থাকতে দেব না—না অস্ত্রসহ, না টানেলসহ। আমাদের স্লোগান অত্যন্ত পরিষ্কার: শেষ টানেলটি ধ্বংস করা পর্যন্ত আমরা থামব না।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্র, টানেল এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা থেকে হামাসকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা ইয়েলো লাইন থেকে এক মিলিমিটারও সরব না।’
এর আগে, গত সোমবার ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস জানান, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য সরকার ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেবে। এই শর্ত পালন না করলে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। প্রায় দুই বছর স্থায়ী এই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে।
এই দীর্ঘ যুদ্ধে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে গাজার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। তবে ইসরায়েল এখন নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
কাটজ জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিল্ড অব ইসরায়েল’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে ৩৫০ বিলিয়ন সেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার) যুক্ত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহান মিত্র’ উল্লেখ করেও কাটজ বলেন, ‘যুদ্ধের সময় গোলাবারুদ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য আমাদের নিজস্ব উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিয়েছে। অর্থনীতি ছাড়া নিরাপত্তা নেই এবং নিরাপত্তা ছাড়া কোনো অর্থনীতি নেই।’
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ