অবশেষে বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্তি পাচ্ছে নগরকান্দাবাসী, সরছে স্তূপীকৃত ময়লা
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভা এলাকার কলেজ রোডে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ময়লা-আবর্জনা ও তার বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এলাকাবাসী। জনদুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে রাস্তা সংলগ্ন ময়লার স্তূপ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দা কলেজ রোডের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিল পৌরসভা। শুধু ময়লা ফেলাই নয়, গত অন্তত আট দিন ধরে সেই ময়লার স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে নগরকান্দা কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও দুর্গন্ধে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে (দৈনিক খোলাচোখ) সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পর পরই পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কলেজ রোড এলাকা থেকে ময়লা সরানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে শুরু করেছে পৌরবাসী।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, “ময়লার আগুনে আমরা ঘরে টিকে থাকতে পারছিলাম না। জানালা-দরজা বন্ধ করেও ধোঁয়া থেকে বাঁচা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ ময়লা সরাচ্ছে দেখে আমরা খুশি। তবে আমাদের দাবি, লোকালয়ের পাশে যেন আর কখনোই ময়লা ফেলা না হয়।”
শিক্ষার্থীরা জানান, “কলেজে আসা-যাওয়ার পথে এই ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ আমাদের জন্য বড় বাধা ছিল। ক্লাসে বসেও দুর্গন্ধে মন দেওয়া যেত না। এখন ময়লা সরানো হচ্ছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য লোকালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে পরিবেশ রক্ষায় খোলামেলা স্থানে ময়লা পোড়ানো বন্ধ করে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
পৌর কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত তৎপরতাকে সাধুবাদ জানালেও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে যেন পুনরায় এমন স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি না হয় এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।
What's Your Reaction?
শফিকুল ইসলাম মন্টু, স্টাফ রিপোর্টারঃ