নওগাঁয় রমজানের আগেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
রমজানের বাকি আর মাত্র একদিন। এর আগেই নওগাঁয় উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এরমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে মুরগি দাম। বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, রসুনসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও বাড়তি। তবে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম এখনও বাড়েনি।
এদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মিলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা এবারও তা দৃশ্যমান। নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার দাবি তাদের। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ভোক্তারা একসঙ্গে বেশি বাজার করছেন। ফলে কিছু পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০টাকা। পাশাপাশি সোনালি ও লেয়ার মুরগির ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর বাজারের মুরগি বিক্রেতা আত্তাব উদ্দিন বলেন, মুরগির সরবরাহ কম। খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামে বিক্রি করছি। এছাড়া এখন একটু বাজারে মুরগির চাহিদা বেশি। সব মিলিয়ে দাম বেড়েছে।
এদিকে, খুচরা সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, একসপ্তাহ আগে বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ বিক্রি হচ্ছে, ৩৫-৪০ টাকা হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। তবে অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। প্রতিকেজি রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, আদার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা। ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ভবানীপুর বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী নিপা আক্তার বলেন, রোজার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে এসেছেন। মুরগির দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। বেগুন, কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় পরিমাণে কম করে নিতে হয়েছে।
আরেক ক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালানো হিমশিম খেতে হবে। কারণ খরচ বাড়ছে আয় তো বাড়ছে না।
আলতাফ হোসেন মাসুদ বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ নাই। এরমধ্যে আবার নতুন সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে। এই সুযাগে ব্যবসায়ীরা যেন বাজার অস্থিতিশীল করতে না সেজন্য সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নওগাঁ পৌর কাচাবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলী বলেন, এই সময় আসলে কিছু পণ্যে শেষ হয়ে যায় আবার কিছু পণ্য নতুন আসে। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে বাজারে কোনো সংকট নেই। সামনে দাম আরও বাড়বে কিনা সেটি আমদানির ওপর নির্ভর করবে।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রতিদিনই আমরা বাজার মনিটর করছি। কোনো ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো ভোক্তা দাম বৃদ্ধির অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ