গলা সমান পানি পেরিয়ে উদ্ধার ফায়ার সার্ভিসের, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই সন্তান জন্ম

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
গলা সমান পানি পেরিয়ে উদ্ধার ফায়ার সার্ভিসের, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই সন্তান জন্ম

চারদিকে থই থই করছে বন্যার পানি। এমন এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাঝরাতে প্রসব বেদনা ওঠে এক নারীর। যাতায়াতের সব পথ বন্ধ থাকায় দিশেহারা পরিবার অবশেষে দ্বারস্থ হয় ফায়ার সার্ভিসের। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা বুক ও গলাসমান পানি পেরিয়ে কাঁধে করে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে তিনি একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির মাঝেই এই ঘটনাটি ঘটে।

পাহাড়ি ঢলে অবরুদ্ধ প্রসূতি
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ডলু নদের তীরবর্তী খৈয়ারকুল গ্রামের সৌদি প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী মিজবাহুল জান্নাতের প্রসব বেদনা শুরু হয়। বাড়ি থেকে উপজেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে পুরো সড়ক ডুবে থাকায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো পথ ছিল না। কয়েক ঘণ্টা যন্ত্রণায় কাটানোর পর ভোরের দিকে কোনো উপায় না দেখে পরিবারটি ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চায়।

ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব ছিল প্রায় ৬০০ মিটার এবং পুরো পথটিই পানির নিচে নিমজ্জিত ছিল। উদ্ধারকারীরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় গলাসমান পানি পেরিয়ে ওই নারীকে স্ট্রেচারে শুইয়ে কাঁধে বহন করে নিরাপদে নিয়ে আসেন। এরপর পূর্বে প্রস্তুত রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডলু, সাঙ্গু ও টঙ্কাবতী নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত রাত থেকে দুই উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় সাতকানিয়া অংশে সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডলু ও টঙ্কাবতী নদীর পানিও আগে থেকেই বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

পাউবোর চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।