বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ রহমতুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
May 21, 2026 - 18:10
May 21, 2026 - 18:10
বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে বড় ধরনের অন্তরায় এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘চপেটাঘাত’। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এই দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।

**বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কালো দিন**
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের দীর্ঘদিনের লালিত আস্থা ও ট্রাস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য একটি কালো দিন (Black day for the independence of judiciary)।”

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের মাজদার হোসেন মামলার রায় এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরপরই ১০ এপ্রিল সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে। পরবর্তীতে ১৯ মে ১৫ জন কর্মকর্তাকে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

**নিয়ন্ত্রণ নয়, স্বাধীনতার দাবি**
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, বিচারকদের ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা রক্ষার মতো বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দিলে বিচারকদের বদলি বা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, যা স্বাধীন বিচার বিভাগের চরিত্র হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই বিচারকরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করুন। পদোন্নতি, বদলি ও ছুটির বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নয়; এগুলো সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি। আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পছন্দসই রায় আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতে চায় কি না, সেই প্রশ্ন আজ দেখা দিয়েছে।”

**বাজেট ও জনবল নিয়োগের ক্ষমতা খর্ব**
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকার কেবল সচিবালয়ই বিলুপ্ত করেনি, প্রধান বিচারপতির ৫০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদনের ক্ষমতাও কেড়ে নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতি ৭৮ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন বিচারক রয়েছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সুপ্রিম কোর্ট বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটিও বর্তমান সিদ্ধান্তে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

পরিশেষে, জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষায় অবিলম্বে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় পুনর্বহালের জোর দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার। পরবর্তীতে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow