মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব: নেপথ্যে আ.লীগ-বিএনপি নেতা!
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নির্বিচারে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর-বিশ্বনাথ এলাকায় কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটার এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—বাসাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও বিগত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত আল-আমিন এবং তার চাচা ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আসলাম শেখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমামগঞ্জ বাজারের খালের উত্তর পাড়ে ৪ নং ওয়ার্ডের চর-বিশ্বনাথ এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই জমিতে তিন ফসলি আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি অভিযুক্ত আল-আমিন ও আসলাম শেখের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি চক্র জমির উর্বর মাটি কেটে গভীর গর্ত বা 'পকেট' তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে অবাধে জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের উর্বর মাটি) কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষিজমি তার স্বাভাবিক উর্বরতা হারাচ্ছে এবং স্থায়ীভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তারা জোরপূর্বক এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মাটি কাটা বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা মারাত্মক খাদ্য সংকটে পড়ব। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।”
ফসলি জমি রক্ষায় এবং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?
এমএ কাইয়ুম মাইজভান্ডারি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ